শিক্ষা

অনলাইন ক্লাস – নেওয়ার পদ্ধতি

নভেল করোনা ভাইরাসের আক্রমণে বিপর্যস্ত সারা বিশ্ব। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে মার্চে যখন দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়, অনেকের ধারণা ছিল এই যে বন্ধ হয়তো বেশিদিন থাকবে না। ফলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অনেকের মাঝে একটা স্থির ভাব ছিল। এখন অনেক দিন পেরিয়ে গেছে, কিন্তু ভাইরাস জনিত অচলাবস্থা তো কাটেইনি, বরং আরো খারাপ থেকে খারাপ হয়েছে। অচিরেই এটি পেরিয়ে ওঠার কোনো লক্ষণ বুঝা যাচ্ছে না। এমত অবস্থায় অনেকদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে রেখে দেয়াটা বাস্তবসম্মত কাজ নয়। এজন্য শিক্ষাবিদরা অনলাইনে ক্লাস নেয়ার কথা বলেছেন। এটি শিক্ষার্থী, শিক্ষকদের জন্য নতুন বলে সবাই কিছুটা তারা কিছুটা দ্বিধা-দ্বন্দ্বের মধ্যে আছে। তাছাড়া বাংলাদেশের কিছু বাস্তব সমস্যার জন্য অন্যান্য দেশের মতো অনলাইন ক্লাস নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

অনলাইন ক্লাসে সমস্যা কোথায়?

অনলাইনে ক্লাস করতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা যে সব সমস্যায় পড়ছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল যে বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা-যাওয়া, ধীরগতির ইন্টারনেট, বাসায় পর্যাপ্ত পরিমানে ল্যাপটপ বা মোবাইল না থাকা, ইন্টারনেট ডাটা কিনতে অসমর্থতা—এসব সমস্যার কথা বলছেন। তার চেয়েও বড় সমস্যা হলো, অনলাইনে ক্লাস করে শিক্ষার্থীরা কতটুকু শিখছে, সেটা বিবেচনায় না নেয়া। বর্তমানে প্রচলিত লেকচার পদ্ধতিতে একজন শিক্ষার্থী ক্লাসের পড়া ৩০-৩৫ শতাংশ মনে রাখতে পারে, যেটা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভুলতে হতে থাকে। আপনারা তথ্যটি পড়ছিলেন সারগো আইটি নিউজে। আর অনলাইনে এই ধরনের পড়া মনে রাখার অবস্থা আরো কি যে খারাপ হয়, তা বলা বাহুল্য। এই দুই ধরনের সমস্যার সমাধানের উপায় হলো, প্রথমত, অনলাইন ক্লাস নেয়ার জন্য শুধু জুম সফটওয়্যারে লাইভ ভিডিওর বা ক্লাস এর জন্য জোর দেয়া যাবে না; এতে প্রয়োজন হবে উচ্চগতির নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট। দ্বিতীয়ত, শিক্ষা কার্যকর  করতে অনলাইনে শিক্ষার্থী কেন্দ্রিক (ফ্লিপড ক্লাস) ক্লাসের ব্যবস্থা করতে হবে। এতে করে ক্লাসের পরও শেখাটা টেকসই হবে।

শিক্ষার্থী কেন্দ্রিক ক্লাস

বর্তমানে আমাদের দেশে প্রচলিত বক্তৃতা মূলক ক্লাসে শিক্ষক নেতৃত্বের ভূমিকায় থাকেন ; যেখানে শিক্ষার্থীর ভূমিকা খুবই নগণ্য থাকে। শিক্ষক একটি বিষয়ের ওপর নির্দিষ্ট সময় বক্তৃতা দেন, শিক্ষার্থীরা বিষয়টির উপর নোট নেয়, তারা পড়া শেখে, ফাইনাল পরিক্ষায় মুখস্থ লিখে দিয়ে আসে। পরীক্ষা দিয়ে আসার পর সব ভুলে যায়। এটি শিক্ষক কেন্দ্রিক শিখন ব্যবস্থার একটি খারাপ দিক। এ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য শিক্ষার্থী কেন্দ্রিক শিক্ষা পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে, যাতে শিক্ষার কেন্দ্রে থাকেন শিক্ষার্থী আর শিক্ষক থাকেন গাইড বা মডারেটর হিসেবে। শিক্ষার্থী নিজের প্রচেষ্টায় এবং বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ করে; শিক্ষক তাকে দরকারি সকল সহায়তা দিয়ে থাকেন। গবেষণায় দেখা গেছে শিক্ষার্থী কেন্দ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষাদান টেকসই ও ফলপ্রসূ হয়।

আরো পড়ুনঃ  এইচএসসি পদার্থ বিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন কুমিল্লা বোর্ড ২০২১

শিক্ষার্থী কেন্দ্রিক শিক্ষা বাস্তবায়ন করতে গেলে প্রথমে ক্লাসের পড়া এবং তার নোট আগেই শিক্ষার্থীদের দিয়ে দেয়া হয়। তারা নিজেরা নিজেদের মতো করে এগুলো শিখে নেয়, তারপর ক্লাসে যোগ দেয়। আর সেগুলো বোঝার সমস্যা হলে প্রথমে তারা নিজেরা আলোচনা করে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করে, পরে তারা শিক্ষকের সহায়তা নেয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় শিক্ষক অনেক সময় সরাসরি উত্তর না দিয়ে হিন্টস বা ধারনা দেন অথবা তিনি গঠনমূলক প্রশ্ন করেন। শিক্ষার্থীরা সেই সকল প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে তার পর পাঠ্য বিষয়কে ভালোভাবে আয়ত্ত করে নেয়। শিক্ষার্থীদের এই বিষয়ভিত্তিক অ্যাসাইনমেন্টও দিয়ে দেওয়া হয়, এবং সেটা তারা একা এবং দলীয় উভয়ভাবে সমাধান করে নেয়।

আরো পড়ুনঃ  এইচএসসি ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন সকল বোর্ড ২০২১ সমাধান [১০০% নির্ভুল ]

তার পরের কাজ হচ্ছে মূল্যায়ন মুলক পদ্ধতিতে (পরীক্ষা পদ্ধতি) নতুনত্ব আনা। পরিক্ষার টার্মের বা সেমিস্টারের শেষে একটি লিখিত পরীক্ষা দিয়ে শিক্ষার্থীর মেধা যাচাইয়ের জন্য পুরাতন পদ্ধতির বদলে অ্যাসাইনমেন্ট, আলোচনা, কুইজ ও মৌখিক পরীক্ষা ইত্যাদির সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের পুরো সেমিস্টারে ধারাবাহিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়। যাতে সেমিস্টারের শেষে শিক্ষার্থীদের মোট অর্জন-পারফরম্যান্স বের করা সম্ভব হয়। খুব ছোট ছোট মূল্যায়নের ফিডব্যাক থেকে পাঠদান পদ্ধতিতেও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা যায়, যাতে তা শেখানোর জন্য যথোপযুক্ত হয়।

অনলাইনে এ সবকিছু দক্ষতার সঙ্গে করার জন্য দরকার একটি শিক্ষা ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি (ইংরেজিতে সংক্ষেপে এলএমএস)। ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ওয়েবসাইটে এ ধরনের সিস্টেম তৈরি করে রাখে। ফলে এটি খুব সহজেই ব্যবহার করা যায় এবং যে কোন জায়গা হতে। আপনারা তথ্যটি পড়ছিলেন সারগো আইটি নিউজে। ক্লাস অনুযায়ী সব শিক্ষা উপকরণ তখন এক জায়গায় পাওয়া যায়। শিক্ষার্থীরা এখানে ক্লাস করে, অ্যাসাইনমেন্ট এবং কুইজ জমা দেয়। শিক্ষকরা ক্লাস-পরীক্ষা নেন, অ্যাসাইনমেন্ট ও কুইজ মূল্যায়ন করেন এবং ফলাফল দেন। এখানে ‘হোয়াইট বোর্ডে’ একেবারে ক্লাসরুমের মতো করেই ক্লাস নেয়া সম্ভব হয়। ক্লাসের ভিডিও পরে দেখার জন্যও তা আবার মজুদ থাকে। তবে আমাদের দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়েই এ ধরনের এলএমএসের সিস্টেমের ব্যবহার নেই, কলেজ বা স্কুলে তো এর ব্যবহার একে বারেই নগণ্য।

আরো পড়ুনঃ  এসএসসি (SSC) পদার্থ বিজ্ঞান ১২তম সপ্তাহের এসাইনমেন্ট সমাধান ২০২২

এলএমএসের বিকল্প গুগল ক্লাস

আমাদের বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের এলএমএসের বিকল্প হিসেবে সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হলো, গুগল ক্লাসরুম ব্যবহার করা। এটি একটা ক্লাউড বেজড শিক্ষা সার্ভিস। তার মানে এটি ব্যবহারের জন্য কোনো ধরনের সফটওয়্যার ইনস্টল করতে হবে না ব্যাবহারকারীকে। সাধারণ ভাবেই জিমেইলে লগ-ইন করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এটি ব্যবহার করতে পারবেন। যেসব প্রতিষ্ঠান বিনা মূল্যের গুগল ফর এডুকেশন ব্যবহার করছে, এটি তাদের জন্যও খুব সুবিধাজনক।

মাত্র কয়েকটি ধাপেই গুগল ক্লাস ব্যবহার করতে হলে প্রথমে নোট বা রিডিং ম্যাটেরিয়াল ক্লাসরুমে ক্লাসের নির্ধারিত সময়ের আগেই দিয়ে দিতে হবে। শিক্ষার্থীরা সেগুলো পড়ে গুগল ক্লাসের মূল পাতায় (যাকে স্ট্রিম বলে) তাদের মন্তব্য লিখবে, সেখানে তাদের জানার কিছু থাকলে তারা প্রশ্নও তারা করবে। অন্য শিক্ষার্থীরা প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে অথবা শিক্ষক এর জবাব দেবেন।

এ আলোচনা থেকে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মাঝে কারা কারা তত্পর, কারা অন্যদের প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিচ্ছে—এ-সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করবেন, এটি শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নে কাজে লাগবে (মূল্যায়ন-১)।

শিক্ষক দলীয় বা একক অ্যাসাইনমেন্ট দেবেন। আর অ্যাসাইনমেন্ট একজন আরেকজনেরটা দেখে লেখার বা ইন্টারনেট থেকে কপি করার প্রবণতা রোধের জন্য ছোট দুটি কাজ করতে হবে—যেখানে সম্ভব হাতে লেখা অ্যাসাইনমেন্ট দিতে হবে, এতে লিখতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের শেখা দীর্ঘস্থায়ী হবে। সব অ্যাসাইনমেন্টের বিষয়বস্তু মূল্যায়ন না করে এর ওপর তিন-চারটি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তরের একটি কুইজও নেয়া যেতে পারে; যেটার উত্তর যাচাই করেও বোঝা যায় অ্যাসাইনমেন্টটা শিক্ষার্থী বুঝে তৈরি করেছে নাকি অন্যেরটা কপি করেছে। কুইজের বদলে সংক্ষিপ্ত মৌখিক পরীক্ষাও নেয়া যাবে (মূল্যায়ন-২)

যার ফলে শিক্ষকের ওপরও চাপ কম পড়বে। পুরো পাঠ্যসূচি বা আংশিক বিষয়ের ওপর বহুনির্বাচনী পরীক্ষাও নেয়া যায় (মূল্যায়ন-৩)

গুগল ক্লাসরুমে খুব সহজে এই এমসিকিউ প্রশ্ন সেট করে পরীক্ষা নেয়া যায়। আগে থেকে উত্তর দিয়ে রাখলে গুগল স্বয়ংক্রিয়ভাবে কুইজের মার্কিং করে পরীক্ষার্থীকে ফলাফল জানিয়ে দেয়। সব শেষে পুরো পাঠ্য বিষয়ে আরেকটি মৌখিক পরীক্ষা নেয়া যেতে পারে (মূল্যায়ন-৪)

এই কয়েক ধরনের মূল্যায়ন মিলিয়ে শিক্ষার্থীর ধারাবাহিক অর্জন দক্ষতার সঙ্গে যাচাই করে নেয়া সম্ভব। এ ধরনের মূল্যায়ন মুখস্থ পদ্ধতি থেকে ভালো বলে শিক্ষাবিদদের কাছে স্বীকৃত। এতে শিক্ষার্থীদের সামর্থ্য অনেক দিক থেকে যাচাই করা সম্ভব।

আবার ক্লাস নোট বা রিডিং ম্যাটেরিয়াল গুগল ক্লাসে দেয়ার পর শিক্ষক চাইলে অনলাইনে লাইভ ক্লাস নিতে পারেন। সবাই এখন জুম সফটওয়্যার ব্যবহার করছে। যেহেতু ইন্টারনেটের প্রাপ্যতা একটি সমস্যা আর আমরা লো ব্যান্ডউইডথবান্ধব শিক্ষা পদ্ধতির কথা বলছি, তাই আমরা জুম ব্যবহারের সুপারিশ করছি না। আপনারা তথ্যটি পড়ছিলেন সারগো আইটি নিউজে। তাছাড়া লাইভ ভিডিও ক্লাস প্রচলিত বক্তৃতা পদ্ধতিরই অন্য রূপ, এটি ছাড়াও সাফল্যজনকভাবেই অনলাইন ক্লাস নেয়া সম্ভব। তবে শিক্ষক চাইলে গুগল ক্লাসের অ্যাপ ‘গুগল মিট’ ব্যবহার করতে পারেন, এটি তুলনামূলক কম ডাটা ব্যবহার করে। আর এতে জুমের ফ্রি ভার্সনের মতো ৪০ মিনিটের সীমা নির্ধারণ করা নেই।

তবে লাইভ ক্লাসের সবচেয়ে ভালো ব্যবহার হয় যদি স্ক্রিন শেয়ার করা যায়। স্ক্রিন শেয়ার একটা পদ্ধতি, যাতে কম্পিউটার বা মোবাইলে চলতে থাকা অন্য যে কোনো প্রোগ্রাম টেলিকাস্ট করা যায়। যেমন আগে থেকে যদি একটি প্রেজেন্টেশন তৈরি করা থাকে তবে সেটা দেখিয়ে দেয়া যেতে পারে। সব শেষে লাইভ সেশন রেকর্ড করে গুগল ক্লাসরুমে আপলোড করে রাখা যেতে পারে, যারা ক্লাসের সময় যোগ দিতে পারেনি, তারা এটি পরে দেখে নেবে। শিক্ষক যদি তার প্রেজেন্টেশনের কপির সঙ্গে একটা অডিও ক্লিপ রেকর্ড করে গুগল ক্লাসে আপলোড করেন, সেটা আরো শিক্ষার্থী বান্ধব হয়। যেকোনো মোবাইল দিয়ে বা হোয়াটসঅ্যাপে রেকর্ড করা ভয়েস ফাইলগুলোর সাইজও খুব ছোট হয়। যাতে করে স্টোরেজ ও কম লাগবে।

শেষ কথা

নভেল করোনাভাইরাসের এই কঠিন সময় নিউ নরমাল বলে একটা নতুন শব্দ এখন চালু হয়েছে, যেখানে সামাজিক দূরত্ব, বাসা থেকে অফিস করা, ক্লাস চালানো ইত্যাদি স্বাভাবিক কার্যক্রম হিসেবে পরিগণিত হবে। অনলাইনের ক্লাস সে রকমই এক নতুন বাস্তবতা। ভাইরাস যুদ্ধকালীন এটি যাতে সবচেয়ে বেশি কার্যকর হয়, শহর-গ্রামের সব শিক্ষার্থী যাতে সমান সুযোগ পায়, সেজন্য আমাদের নিজেদের উপযোগী করে অনলাইন ক্লাসের পদ্ধতি বেছে নিতে হবে। সবার জন্য অনলাইন ক্লাস সফল হোক।

বিঃদ্রঃ এই ব্লগে বিভিন্ন কনটেন্ট,ভিডিও ও ছবি বিভিন্ন ওয়েবসাইট/বই থেকে নেওয়া হতে পারে।আমরা আপনার মূল্যবান কনটেন্ট,অন্যের উপকারের লক্ষে শেয়ার করে থাকি।তবে আপনার যদি কোনও আপত্তি থাকে,তাহলে আমাদের কাছে অভিযোগ করুন।আপনার কনটেন্ট সরিয়ে ফেলা হবে।

সারগো আইটি নিউজ

টেক ও প্রযুক্তির সকল তথ্য সকল মানুষের সাথে শেয়ার করা এবং অনলাইনে নিরপত্তা নিশ্চিত করাই সারগো আইটি নিউজের মূল লক্ষ্য । তাই টেক ও প্রযুক্তির সকল তথ্য জানার জন্য নিয়মিত আমাদের ব্লগে চোখ রাখুন এবং বিভিন্ন আপডেট ই-মেইলে পেতে আমাদের ওয়েবসাইটের সাবস্ক্রিপশন অন করে রাখুন।
Back to top button

Adblock Detected

Please Disable your AdBlocker